০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুব অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সারের মজুত নিয়ে সংকট নেই

সারের মজুত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে সারের মজুত কম নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা খানিকটা বেশি।

তিনি বলেন, মজুতে কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে সব ধরনের সার গত বছরের তুলনায় সমান বা কিছুটা বেশি পরিমাণে মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ পর্যায়ের কোনো একটি স্থানে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেটি দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খুব দ্রুত কমবে লোডশেডিং

দেশব্যাপী লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড’ সময়ের মধ্যে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশ খানিকটা কমবে বলে তারা আশা করছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায়ও তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঢাকায় কেন লোডশেডিং বাড়ানো হয়েছে

তিনি বলেন, বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। কারণ, এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হয়। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে লোডশেডিংয়ের চাপ সবার মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, শুধু প্রভাবশালী মানুষ বসবাস করেন বলে বড় শহরে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হবে—এমন নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে।

আগের লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশ করা হবে

আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময় কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তার দাবি, অতীতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে সরে এসেছে।

যেসব কারণে বিদ্যুৎ সংকট

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে—

  • জ্বালানি ঘাটতি
  • বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি
  • বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ
  • সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা
  • বিদ্যুতের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল।

ঢাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য এলাকায় সরবরাহ

সংকট মোকাবিলায় ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে কিংবা ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

দীর্ঘস্থায়ী হবে না সংকট

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করতে হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকার একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকটের কষ্ট কমবেশি সবাইকে নিতে হবে। তবে এই কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলে তারা মনে করছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খুব অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সারের মজুত নিয়ে সংকট নেই

সারের মজুত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে সারের মজুত কম নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা খানিকটা বেশি।

তিনি বলেন, মজুতে কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে সব ধরনের সার গত বছরের তুলনায় সমান বা কিছুটা বেশি পরিমাণে মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ পর্যায়ের কোনো একটি স্থানে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেটি দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খুব দ্রুত কমবে লোডশেডিং

দেশব্যাপী লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড’ সময়ের মধ্যে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশ খানিকটা কমবে বলে তারা আশা করছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায়ও তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঢাকায় কেন লোডশেডিং বাড়ানো হয়েছে

তিনি বলেন, বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। কারণ, এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হয়। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে লোডশেডিংয়ের চাপ সবার মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, শুধু প্রভাবশালী মানুষ বসবাস করেন বলে বড় শহরে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হবে—এমন নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে।

আগের লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশ করা হবে

আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময় কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তার দাবি, অতীতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে সরে এসেছে।

যেসব কারণে বিদ্যুৎ সংকট

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে—

  • জ্বালানি ঘাটতি
  • বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি
  • বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ
  • সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা
  • বিদ্যুতের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল।

ঢাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য এলাকায় সরবরাহ

সংকট মোকাবিলায় ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর মাধ্যমে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে কিংবা ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

দীর্ঘস্থায়ী হবে না সংকট

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করতে হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকার একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকটের কষ্ট কমবেশি সবাইকে নিতে হবে। তবে এই কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলে তারা মনে করছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।