কুমিল্লায় প্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠিতে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
চার্জশিটে যাদের নাম
চার্জশিটে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে তিনজনকে:
- সাইফুল ইসলাম তুহিন
- মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ
- কামরুল হাসান
এছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল সিয়াম নামে একজন।
তদন্তে যা উঠে এসেছে
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার নির্জন পাহাড়ঘেরা বনে যায় তুহিন। সেখানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতীম বাধা দেয়।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, মোবাইল উদ্ধার
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
বাবার প্রতিক্রিয়া: দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ সাজার দাবি
মামলার বাদী ও অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সাজা হবে, সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁক গলে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।”























