০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্ষে উইপোকা দেখে কুমিল্লা সার্কিট হাউস ছাড়লেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা সার্কিট হাউসের বরাদ্দকৃত কক্ষে প্রচুর উইপোকা দেখতে পেয়ে সেখানে রাত্রিযাপন করেননি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পরে তিনি সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে রাত কাটান।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।

লংমার্চ উপলক্ষে কুমিল্লায় যান তাহের

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যান ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা।

তার রাত্রিযাপনের জন্য কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বরাদ্দ করা হয়। রাতে সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

তবে কক্ষে প্রবেশের পরই দেখা দেয় বিপত্তি।

আসবাব ও কম্বলজুড়েও উইপোকা

জামায়াত নেতাদের দাবি, রাত ১০টার দিকে কক্ষে গিয়ে তাহের প্রচুর উইপোকা দেখতে পান। কক্ষের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি আসবাবপত্রেও উইপোকার উপস্থিতি ছিল।

এমনকি ব্যবহারের জন্য রাখা কম্বলও উইপোকামুক্ত ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে জানান।

একই সঙ্গে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। পাশাপাশি একটি নতুন কম্বল দেওয়ার অনুরোধও করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি।

এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সার্কিট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ভাইরাল

এদিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ওই কক্ষের দাবি করে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে কক্ষের বিভিন্ন স্থানে উইপোকা দেখা যায়।

ছবিগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি অতিথিশালার একটি কক্ষে এমন পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

‘ভিআইপি অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থা নাজুক’

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেন, কুমিল্লা সার্কিট হাউস একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক ভবন। এটি দেখভালের জন্য সরকারি জনবলও রয়েছে।

তারপরও ভিআইপি অতিথিদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহবুবর রহমান বলেন, কক্ষে উইপোকার বেশ দাপট দেখা গেছে। বিকল্প কক্ষের জন্য অপেক্ষা করেও ব্যবস্থা না পাওয়ায় ডা. তাহের সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র রাত্রিযাপন করেন।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সার্কিট হাউসে আরও কয়েকটি কক্ষ খালি ছিল। কিন্তু অন্য কক্ষের চাবি আনতে কিছুটা দেরি হয়। এ কারণেই ডা. তাহের অপেক্ষা না করে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান।

ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণ ও অতিথিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কক্ষে উইপোকা দেখে কুমিল্লা সার্কিট হাউস ছাড়লেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা সার্কিট হাউসের বরাদ্দকৃত কক্ষে প্রচুর উইপোকা দেখতে পেয়ে সেখানে রাত্রিযাপন করেননি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পরে তিনি সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে রাত কাটান।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।

লংমার্চ উপলক্ষে কুমিল্লায় যান তাহের

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যান ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা।

তার রাত্রিযাপনের জন্য কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বরাদ্দ করা হয়। রাতে সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

তবে কক্ষে প্রবেশের পরই দেখা দেয় বিপত্তি।

আসবাব ও কম্বলজুড়েও উইপোকা

জামায়াত নেতাদের দাবি, রাত ১০টার দিকে কক্ষে গিয়ে তাহের প্রচুর উইপোকা দেখতে পান। কক্ষের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি আসবাবপত্রেও উইপোকার উপস্থিতি ছিল।

এমনকি ব্যবহারের জন্য রাখা কম্বলও উইপোকামুক্ত ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে জানান।

একই সঙ্গে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। পাশাপাশি একটি নতুন কম্বল দেওয়ার অনুরোধও করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি।

এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সার্কিট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ভাইরাল

এদিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ওই কক্ষের দাবি করে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে কক্ষের বিভিন্ন স্থানে উইপোকা দেখা যায়।

ছবিগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি অতিথিশালার একটি কক্ষে এমন পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

‘ভিআইপি অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থা নাজুক’

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেন, কুমিল্লা সার্কিট হাউস একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক ভবন। এটি দেখভালের জন্য সরকারি জনবলও রয়েছে।

তারপরও ভিআইপি অতিথিদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহবুবর রহমান বলেন, কক্ষে উইপোকার বেশ দাপট দেখা গেছে। বিকল্প কক্ষের জন্য অপেক্ষা করেও ব্যবস্থা না পাওয়ায় ডা. তাহের সার্কিট হাউস ছেড়ে অন্যত্র রাত্রিযাপন করেন।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সার্কিট হাউসে আরও কয়েকটি কক্ষ খালি ছিল। কিন্তু অন্য কক্ষের চাবি আনতে কিছুটা দেরি হয়। এ কারণেই ডা. তাহের অপেক্ষা না করে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান।

ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণ ও অতিথিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।