ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর পথ হারাবে না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করা প্রয়োজন।
৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চেনার দিন
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ সালের এই দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চেনার দিন। সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি ও জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যেভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছে, একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। আর ৭ নভেম্বরের নায়ক ছিলেন দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, একইভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও রণাঙ্গনে নেমেছিলেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার অংশগ্রহণ ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান
সরকারপ্রধান আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে অন্যের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, তাদের ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা রুখে দিয়েছিল। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও তারা প্রতিহত করেছিলেন।
তবে ষড়যন্ত্র সেখানেই থেমে থাকেনি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে মহাজোটের মাধ্যমে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না। জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন তিনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


























