পদত্যাগ করলেন ট্রাম্প প্রশাসনের ৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ১২:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫১৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে দেশটির বিচার বিভাগের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এসব পদত্যাগের তথ্য জানানো হয়। পদত্যাগকারীরা হলেন নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধীলন, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেস।
পদত্যাগের তথ্য জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল
ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা টড ব্ল্যাঞ্চ বৃহস্পতিবার হারমিত ধীলনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ধীলনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধীলন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটার নিবন্ধনের তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।
প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্য থেকে ভোটার নিবন্ধনের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।
একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমে ধীলনের পদত্যাগপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত অক্টোবরেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকতে সম্মত হয়েছিলেন তিনি।
আরও দুই কর্মকর্তার পদত্যাগ
শুক্রবার টড ব্ল্যাঞ্চ আরও দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগের তথ্য জানান। তাঁরা হলেন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেস।
কুইনোনেস বেশ কয়েকজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, তাঁরা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তিন কর্মকর্তার পদত্যাগের পেছনে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনে বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্পের বিরোধী হিসেবে পরিচিত অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের পছন্দের বাইরে থাকা কয়েকজন প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালনে অনীহা বা অক্ষমতার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন।
এ ছাড়া বিচার বিভাগের দায়ের করা কয়েকটি মামলাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি অন্যতম।
গত এপ্রিল মাসে কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ইনস্টাগ্রামে সামুদ্রিক ঝিনুকের ছবি ব্যবহার করে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের জীবননাশের হুমকি দিয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই পদত্যাগের ঘটনা ট্রাম্প সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সূত্র: এএফপি ও এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।





















