উত্তরাখণ্ডে ৬ আরোহী নিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ছয়জন আরোহী নিয়ে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যোশীমঠ-বদ্রীনাথ রুটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারটিতে পাইলটসহ ছয়জন পুরুষ আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যোশীমঠের কাছে ছায়ী গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর ছয় আরোহীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বদ্রীনাথ থেকে উড্ডয়নের পর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ইউসিএডিএ) বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত হেলিকপ্টারটির কলসাইন ছিল ভিটি-এইচসিএক্স। এটি বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুনের সহস্রধারার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে হেলিকপ্টারটি বদ্রীনাথ থেকে উড্ডয়ন করে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় তুষারপাত হচ্ছিল। যোশীমঠ উপত্যকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এরপর হেলিকপ্টারটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাতি পর্বত এলাকায় যাওয়ার পরও এর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ট্র্যাকিং ব্যবস্থাতেও হেলিকপ্টারটির অবস্থান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে যোশীমঠের কাছে এটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর আসে।
হেলিকপ্টারে ছিলেন পাইলটসহ ছয়জন
দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটিতে পাইলটসহ মোট ছয়জন পুরুষ আরোহী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে।
তারা হলেন প্রতাপা, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে, এইচএস নটরাজা এবং পাইলট ক্যাপ্টেন হিমাংশু।
তবে দুর্ঘটনার পর তাদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও এসডিআরএফ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, এসডিআরএফ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়াও উদ্ধার অভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি তিনি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হেলিকপ্টারের আরোহীদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেছেন তিনি।
যোশীমঠের মহকুমা প্রশাসক (এসডিএম) চন্দ্র শেখর বশিষ্ঠও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, এসডিআরএফ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের দল পাঠানো হচ্ছে। তিনিও দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরো বহরের উড্ডয়ন স্থগিত
এদিকে দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের পুরো হেলিকপ্টার বহরের উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির হেলিকপ্টার চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পুরোনো ইতিহাস
ভারতের উত্তরাখণ্ডে গত এক দশকে অন্তত ১২টি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা বা দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচটি বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং সাতটি প্রাণহানিহীন ঘটনা রয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণ, বাধ্যতামূলক অবতরণ এবং ভূমিতে দুর্ঘটনার ঘটনাও রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে কেদারনাথ মন্দির থেকে গুপ্তকাশীতে যাওয়ার পথে একটি হেলিকপ্টার বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হন।
মূলত পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন, তুষারপাত এবং দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এই অঞ্চলে হেলিকপ্টার পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর আবারও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

























