ইতালিতে হামলার পর দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ, ‘আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে’
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
ইতালিতে হামলার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে লাঞ্ছিত হন তিনি। দেশে ফিরে বাঁধন জানিয়েছেন, হামলার পর নিজের সিনেমার টিমের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাঁধন। এ সময় ইতালিতে হামলার পর পাওয়া সহযোগিতা ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।
ইতালি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা
হামলার পর ভেনিসে তিনি বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান বাঁধন। তার ভাষ্য, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের পরিচালক, ইতালি সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস তাকে সহায়তা করেছে।
বাঁধন বলেন, ঘটনার রাতেই বাংলাদেশের সরকারি দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও তাকে সহযোগিতা করেন।
এ ছাড়া ইতালির কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ বিভাগ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক লিডো এলাকায় তার থাকার ব্যবস্থাও করেন।
‘আমার টিম আমাকে বর্জন করেছে’
তবে নিজের সিনেমার টিমের আচরণে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে টিমের সঙ্গে অংশ নিতে তাকে নিষেধ করা হয়েছিল।
বাঁধনের ভাষ্য, তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। এমনকি পরবর্তী সময়ে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার বিষয়েও তাকে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে সিনেমার সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন এবং জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
হামলার পর দেশবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাঁধন। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাঁধন বলেন, দেশের মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিদের সমর্থন তিনি কখনো ভুলবেন না।
উল্লেখ্য, মেস্ত্রে শহরে গত মঙ্গলবার বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন এই অভিনেত্রী।
বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।





















