হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
- আপডেট সময় : ১০:৫২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘খুব শিগগিরই, যেকোনো উপায়ে’ এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। তবে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে হবে। অন্যথায় ওয়াশিংটন নিজ উদ্যোগেই যুদ্ধ শেষ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে দুই দিনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, চলমান সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে বলে তিনি আশা করেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশের জ্বালানি পরিবহন করা হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই প্রণালিটি বন্ধ বা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার চাপও তৈরি হতে পারে।
দুই ট্যাংকারে আগুন, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালিতে দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন উপসাগরীয় দেশগুলো কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
পরপর এসব ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের বার্তা
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত থাকলেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে।
এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা সংঘাত নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা—দুটি বিষয়ই এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে।





















