১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরির নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে প্রশাসন।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি

আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে অনেক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার কারণে অনেকেই নতুন করে চাকরি পাচ্ছেন না।

এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আশুলিয়া ও মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষ

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষ শুধু গাজীপুরে সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই দিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকরা।

আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা পুলিশের

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি।

মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

বর্তমানে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনা এবং অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগের মধ্যেই মহাসড়কে ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আপডেট সময় : ১০:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরির নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে প্রশাসন।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি

আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে অনেক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার কারণে অনেকেই নতুন করে চাকরি পাচ্ছেন না।

এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আশুলিয়া ও মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষ

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষ শুধু গাজীপুরে সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই দিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকরা।

আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা পুলিশের

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি।

মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

বর্তমানে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনা এবং অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগের মধ্যেই মহাসড়কে ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।