০১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কই বড় শর্ত

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি কংগ্রেসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কংগ্রেসে পাঠিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে কি না, তার ওপর।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ট্রাম্পের ‘অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ উদ্যোগে যুক্ত হলে পরমাণু চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।

তবে চুক্তির মূল নথিতে সৌদি আরবকে অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বলে আগে জানিয়েছিল সিএনএন। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে।”

কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় চুক্তি

মার্কিন পারমাণবিক শক্তি আইনের আওতায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ৯০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি অনুমোদন করলে এটি কার্যকর হবে। তবে চুক্তির খসড়া গোপন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সাধারণত বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির বেশির ভাগ তথ্য প্রকাশ করা হলেও সৌদি চুক্তির ক্ষেত্রে পুরো নথি গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের গবেষক আন্দ্রেয়া স্ট্রিকার বলেন, সাধারণত এ ধরনের চুক্তিতে অল্প কিছু অংশ গোপন রাখা হয়। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ থাকে।

সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, চুক্তিতে সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

চুক্তিতে বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির জন্য সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রস্তুতের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আইএইএর পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসন ও কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী রিয়াদ।

তবে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি পরমাণু চুক্তি শুধু জ্বালানি সহযোগিতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণও গভীরভাবে জড়িত। তাই কংগ্রেসে অনুমোদনের পাশাপাশি ইসরায়েল ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে রিয়াদকে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কই বড় শর্ত

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি কংগ্রেসে

আপডেট সময় : ১১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কংগ্রেসে পাঠিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে কি না, তার ওপর।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ট্রাম্পের ‘অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ উদ্যোগে যুক্ত হলে পরমাণু চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।

তবে চুক্তির মূল নথিতে সৌদি আরবকে অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বলে আগে জানিয়েছিল সিএনএন। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে।”

কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় চুক্তি

মার্কিন পারমাণবিক শক্তি আইনের আওতায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ৯০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি অনুমোদন করলে এটি কার্যকর হবে। তবে চুক্তির খসড়া গোপন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সাধারণত বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির বেশির ভাগ তথ্য প্রকাশ করা হলেও সৌদি চুক্তির ক্ষেত্রে পুরো নথি গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের গবেষক আন্দ্রেয়া স্ট্রিকার বলেন, সাধারণত এ ধরনের চুক্তিতে অল্প কিছু অংশ গোপন রাখা হয়। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ থাকে।

সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, চুক্তিতে সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

চুক্তিতে বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির জন্য সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রস্তুতের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আইএইএর পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসন ও কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী রিয়াদ।

তবে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি পরমাণু চুক্তি শুধু জ্বালানি সহযোগিতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণও গভীরভাবে জড়িত। তাই কংগ্রেসে অনুমোদনের পাশাপাশি ইসরায়েল ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে রিয়াদকে।