০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি টাকা অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জন আসামি

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্টদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

সিএসআর তহবিল সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে থাকে। তবে এই তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে দুদক।

৪১ ব্যাংকের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

দুদকের প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ ২৭৬ কোটি টাকা।

এই বিপুল অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোন কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।

দুদক মনে করছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এসব অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা দুর্নীতি ও অনিয়মের আওতায় পড়তে পারে। তাই অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও চারজনের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে দুদক

এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও একজন সচিবসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে দুদক। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি টাকা অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জন আসামি

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্টদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

সিএসআর তহবিল সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে থাকে। তবে এই তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে দুদক।

৪১ ব্যাংকের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

দুদকের প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ ২৭৬ কোটি টাকা।

এই বিপুল অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোন কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।

দুদক মনে করছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এসব অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা দুর্নীতি ও অনিয়মের আওতায় পড়তে পারে। তাই অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও চারজনের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে দুদক

এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও একজন সচিবসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে দুদক। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।