শনিবার দেশে ফিরছে সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশে পৌঁছাবে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর পাঁচজন এবং নাটোরের দুজন রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের মরদেহ ফিরে পাওয়ার খবরে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান।
ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত সাতজনের পরিচয়
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। পরে গত ২৭ আগস্ট নিহতদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
তবে বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরই মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর পাঁচ ও নাটোরের দুজন
সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, নিহত সাতজনের মধ্যে নওগাঁ জেলার পাঁচজন রয়েছেন।
তারা হলেন- নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ মহল্লার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন (২৮), আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (৩০), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক (২৬), মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব (৩৪) এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী (৩২)।
অন্যদিকে, নাটোর জেলার নিহত দুজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীপাড়া গ্রামের জাকের আলীর ছেলে মোহাম্মদ শামিম (৩৪) এবং খাজুর গ্রামের বাব্বানির ছেলে সাব্বির হোসেন (২৭)।
নিজ নিজ এলাকায় হবে জানাজা ও দাফন
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহগুলো দীর্ঘদিন পর দেশে আসায় আগের মতো এক জায়গায় সম্মিলিত জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে না।
তিনি জানান, ঢাকায় পৌঁছানোর পর মরদেহগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।
স্বজনদের শেষবার দেখার অপেক্ষা
এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নিহত হাসিবুল হাসান শুভর পরিবার মরদেহ গ্রহণ ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হাসিবুলের বাবা নাজমুল হুদা জানান, ছেলের মরদেহ ফিরে পাবেন—এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা। তবে দেশে মরদেহ আসার খবর পাওয়ার পর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ছেলেকে শেষবারের মতো নিজের চোখে দেখতে পারবেন এবং শেষ বিদায় জানাতে পারবেন—এটাই তাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া।
দীর্ঘ সময় পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে শনিবারের দিনটি হবে একই সঙ্গে স্বস্তি ও গভীর বেদনার।






















