০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, বিপদে ৫০ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাগাতার বৃষ্টি ও নেপাল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। ফুলে উঠেছে গঙ্গা ও এর শাখা নদীগুলো। এতে দুই রাজ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিহারে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মালদায় বন্যার পাশাপাশি বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা।

বিহারে ৪৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

গত সাত দিনের বেশি সময় ধরে বন্যার সঙ্গে লড়ছে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। তবে বিহারের গঙ্গা তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

কোথাও কোমরসমান পানি। আবার কোথাও পানি উঠেছে একতলা বাড়ির সমান উচ্চতায়। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিহারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ। ১৫টি জেলার ৮৮টি ব্লকের ৫৬১টি গ্রাম পঞ্চায়েত বন্যাকবলিত হয়েছে।

প্লাবিত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরায়, বক্সর, সমস্তীপুর, মুঙ্গের, কটিহার, লখিসরায়, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা ও আরারিয়া। এসব জেলার মধ্যে ভাগলপুর, পাটনা, সারণ, বৈশালী, বেগুসরায়, কটিহার, পূর্ণিয়া ও বক্সরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।

বাড়ছে গঙ্গার পানি

বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ত্রিপল ও ৪৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ১ হাজার ৯২২টি নৌকা। এছাড়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল মোতায়েন রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে চলতি সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত বিহারে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। শুক্রবার ভাগলপুরে গঙ্গার পানির উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৬২ মিটারে পৌঁছায়। এটি বিপৎসীমার চেয়ে ২ দশমিক ১২ মিটার বেশি। তবে পরে পানির স্রোত কিছুটা কমেছে।

এদিকে ডুমরিয়া ঘাটে গণ্ডক, বলতারা ও কুরসেলা ঘাটে কোশী, খাগাড়িয়ায় বুড়ী গণ্ডক এবং গাঁধীঘাট, হাতিদহ, ভাগলপুর, কাহালগাঁও ও মুঙ্গেরে গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মালদায় বিপর্যস্ত ৫ লাখ মানুষ

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালদা জেলা। প্রায় ১০ দিন ধরে বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে থাকা জেলাটির পরিস্থিতি গত শনিবার থেকে আরও ভয়াবহ হয়েছে।

গঙ্গার পানিতে ভেসে গেছে ভূতনি চরের প্রায় ৭৮টি গ্রাম। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৩টি গ্রামও জলমগ্ন হয়েছে। কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকের বেশ কিছু এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে। সব মিলিয়ে মালদায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত। জেলায় বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা

রোববার মালদায় গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফুলহর নদীর পানিও বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গঙ্গায় লাল এবং ফুলহর নদীতে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।

মালদা শহরের বাঁধ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গঙ্গার পানি দ্রুত না কমলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ১৯৯৮ সালে এই বাঁধ ভেঙে গঙ্গার পানি মালদা শহরে ঢুকে পড়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যারেজের নিচের দিকে থাকা গ্রামগুলোতেও পানি ঢুকছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় এনডিআরএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষকে কাছাকাছি ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। তবে গবাদি পশু সঙ্গে থাকায় অনেকেই সেখানে যেতে চাইছেন না। অনেক পরিবার উঁচু বাঁধে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, বিপদে ৫০ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাগাতার বৃষ্টি ও নেপাল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। ফুলে উঠেছে গঙ্গা ও এর শাখা নদীগুলো। এতে দুই রাজ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিহারে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মালদায় বন্যার পাশাপাশি বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা।

বিহারে ৪৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

গত সাত দিনের বেশি সময় ধরে বন্যার সঙ্গে লড়ছে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। তবে বিহারের গঙ্গা তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

কোথাও কোমরসমান পানি। আবার কোথাও পানি উঠেছে একতলা বাড়ির সমান উচ্চতায়। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিহারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ। ১৫টি জেলার ৮৮টি ব্লকের ৫৬১টি গ্রাম পঞ্চায়েত বন্যাকবলিত হয়েছে।

প্লাবিত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরায়, বক্সর, সমস্তীপুর, মুঙ্গের, কটিহার, লখিসরায়, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা ও আরারিয়া। এসব জেলার মধ্যে ভাগলপুর, পাটনা, সারণ, বৈশালী, বেগুসরায়, কটিহার, পূর্ণিয়া ও বক্সরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।

বাড়ছে গঙ্গার পানি

বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ত্রিপল ও ৪৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ১ হাজার ৯২২টি নৌকা। এছাড়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল মোতায়েন রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে চলতি সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত বিহারে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। শুক্রবার ভাগলপুরে গঙ্গার পানির উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৬২ মিটারে পৌঁছায়। এটি বিপৎসীমার চেয়ে ২ দশমিক ১২ মিটার বেশি। তবে পরে পানির স্রোত কিছুটা কমেছে।

এদিকে ডুমরিয়া ঘাটে গণ্ডক, বলতারা ও কুরসেলা ঘাটে কোশী, খাগাড়িয়ায় বুড়ী গণ্ডক এবং গাঁধীঘাট, হাতিদহ, ভাগলপুর, কাহালগাঁও ও মুঙ্গেরে গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মালদায় বিপর্যস্ত ৫ লাখ মানুষ

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালদা জেলা। প্রায় ১০ দিন ধরে বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে থাকা জেলাটির পরিস্থিতি গত শনিবার থেকে আরও ভয়াবহ হয়েছে।

গঙ্গার পানিতে ভেসে গেছে ভূতনি চরের প্রায় ৭৮টি গ্রাম। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৩টি গ্রামও জলমগ্ন হয়েছে। কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকের বেশ কিছু এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে। সব মিলিয়ে মালদায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত। জেলায় বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা

রোববার মালদায় গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফুলহর নদীর পানিও বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গঙ্গায় লাল এবং ফুলহর নদীতে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।

মালদা শহরের বাঁধ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গঙ্গার পানি দ্রুত না কমলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ১৯৯৮ সালে এই বাঁধ ভেঙে গঙ্গার পানি মালদা শহরে ঢুকে পড়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যারেজের নিচের দিকে থাকা গ্রামগুলোতেও পানি ঢুকছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় এনডিআরএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষকে কাছাকাছি ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। তবে গবাদি পশু সঙ্গে থাকায় অনেকেই সেখানে যেতে চাইছেন না। অনেক পরিবার উঁচু বাঁধে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।