০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পেশা ছাড়ছেন কারিগররা

ময়মনসিংহে বিপাকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় দোকানভাড়া ও কর্মচারীদের বেতনসহ ব্যবসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, কাজের অর্ডার কমে যাওয়ায় আয় হারাচ্ছেন স্বর্ণালঙ্কার কারিগররা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে শতাধিক কারিগর ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

উৎসবের মৌসুমেও বিক্রি নেই

ময়মনসিংহের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। দু-একজন ক্রেতা এলেও সোনার দাম শুনে দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে বিয়ে ও পূজা-পার্বণের মতো উৎসবের সময়েও প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সোনার উচ্চমূল্যের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বর্ণালঙ্কার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাঁরা আগে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কিনতেন, তাঁদের অনেকে কেনাকাটা কমিয়েছেন। কেউ কেউ নতুন গয়না না কিনে পুরোনো গয়না দিয়েই প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

বর্তমান সোনার দাম কত

বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম: ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে স্বর্ণালঙ্কার।

খরচ মেটাতে হিমশিম স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি কমলেও দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতনসহ নিয়মিত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে অনেকে আর্থিক চাপে পড়েছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট ও মাঝারি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেবল আদিত্য বলেন, “আগে দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। এখন অনেকেই দাম জানতে আসেন, কিন্তু দাম শুনে কিনতে পারেন না। বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জয় সাহা বলেন, “দোকান চালাতে প্রতিদিনই খরচ হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি নেই। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হবে।”

কাজ নেই, পেশা বদলাচ্ছেন স্বর্ণালঙ্কার কারিগররা

গয়না তৈরির অর্ডার কমে যাওয়ায় কারিগরদের অনেকের নিয়মিত কাজ নেই। কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমে গেছে। কেউ অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন, কেউ আবার সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্বর্ণালঙ্কার কারিগর বাসু দেব বলেন, “আগে নিয়মিত কাজ থাকত, আয় দিয়ে সংসার চলত। এখন কাজ কমে যাওয়ায় অনেক দিন বসে থাকতে হয়। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অন্য কাজের কথা ভাবতে হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কাজের অভাবে কারিগরদের পেশা বদলাতে হচ্ছে। এতে তাঁদের জীবিকা অনিশ্চিত হচ্ছে, পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে দক্ষ জনবল হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

সংকট কাটাতে ব্যবসায়ীদের দাবি

সংকট কাটিয়ে উঠতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের বৈধ আমদানি ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্বর্ণ সংগ্রহ ও ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে এ খাতে স্বাভাবিক বেচাকেনা ফিরবে।

ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি শংকর সাহা বলেন, “স্বর্ণের বাজারে মন্দার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যকর উদ্যোগ নিলে জুয়েলারি ব্যবসায় গতি ফিরবে। কাজের সুযোগ বাড়লে আর্থিক সংকটে থাকা কারিগররাও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পেশা ছাড়ছেন কারিগররা

ময়মনসিংহে বিপাকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় দোকানভাড়া ও কর্মচারীদের বেতনসহ ব্যবসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, কাজের অর্ডার কমে যাওয়ায় আয় হারাচ্ছেন স্বর্ণালঙ্কার কারিগররা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে শতাধিক কারিগর ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

উৎসবের মৌসুমেও বিক্রি নেই

ময়মনসিংহের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। দু-একজন ক্রেতা এলেও সোনার দাম শুনে দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে বিয়ে ও পূজা-পার্বণের মতো উৎসবের সময়েও প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সোনার উচ্চমূল্যের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বর্ণালঙ্কার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাঁরা আগে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কিনতেন, তাঁদের অনেকে কেনাকাটা কমিয়েছেন। কেউ কেউ নতুন গয়না না কিনে পুরোনো গয়না দিয়েই প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

বর্তমান সোনার দাম কত

বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম: ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে স্বর্ণালঙ্কার।

খরচ মেটাতে হিমশিম স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি কমলেও দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতনসহ নিয়মিত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে অনেকে আর্থিক চাপে পড়েছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট ও মাঝারি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেবল আদিত্য বলেন, “আগে দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। এখন অনেকেই দাম জানতে আসেন, কিন্তু দাম শুনে কিনতে পারেন না। বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জয় সাহা বলেন, “দোকান চালাতে প্রতিদিনই খরচ হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি নেই। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হবে।”

কাজ নেই, পেশা বদলাচ্ছেন স্বর্ণালঙ্কার কারিগররা

গয়না তৈরির অর্ডার কমে যাওয়ায় কারিগরদের অনেকের নিয়মিত কাজ নেই। কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমে গেছে। কেউ অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন, কেউ আবার সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্বর্ণালঙ্কার কারিগর বাসু দেব বলেন, “আগে নিয়মিত কাজ থাকত, আয় দিয়ে সংসার চলত। এখন কাজ কমে যাওয়ায় অনেক দিন বসে থাকতে হয়। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অন্য কাজের কথা ভাবতে হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কাজের অভাবে কারিগরদের পেশা বদলাতে হচ্ছে। এতে তাঁদের জীবিকা অনিশ্চিত হচ্ছে, পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে দক্ষ জনবল হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

সংকট কাটাতে ব্যবসায়ীদের দাবি

সংকট কাটিয়ে উঠতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের বৈধ আমদানি ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্বর্ণ সংগ্রহ ও ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে এ খাতে স্বাভাবিক বেচাকেনা ফিরবে।

ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি শংকর সাহা বলেন, “স্বর্ণের বাজারে মন্দার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যকর উদ্যোগ নিলে জুয়েলারি ব্যবসায় গতি ফিরবে। কাজের সুযোগ বাড়লে আর্থিক সংকটে থাকা কারিগররাও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।