মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৫ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। তাঁর মাধ্যমে মানুষের সামনে সত্য ও আলোর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
মহানবী (সা.) মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করেন। একই সঙ্গে তিনি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তাঁর জীবন থেকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষাও পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন।
তরুণদের নৈতিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে।
এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হবে।
জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় তরুণদের গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস।
মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়। মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ার ক্ষেত্রেও তাঁর শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধ শক্তিশালী করতে হবে।
এর মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
























