ভোটার এলাকা পরিবর্তনে সময় বেঁধে দিল ইসি
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এলাকায় বসবাস শুরু করা ভোটাররা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে দেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন ধাপে সম্পন্ন হবে ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন দাখিলের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর। এরপর আবেদন ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর দাখিল করা আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর।
অর্থাৎ, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ভোটারদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদন ইস্যু করবেন এবং তৃতীয় ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন গ্রহণ, ইস্যু ও নিষ্পত্তির সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
আবাসস্থল পরিবর্তন করলেই মিলবে ভোটার এলাকা বদলের সুযোগ
সাধারণত একজন ভোটারের ভোটার এলাকা তার স্থায়ী বা নির্ধারিত ঠিকানার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। তবে চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্যান্য কারণে অনেক ভোটার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাস শুরু করেন। এ ধরনের আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটারদের নতুন এলাকার ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ভোটাররা নতুন আবাসস্থলের এলাকার ভোটার তালিকায় স্থানান্তরিত হতে পারবেন।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ গুরুত্ব
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের এই সময়সূচি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ভোটারদের নিজ নিজ এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যারা সম্প্রতি আবাসস্থল পরিবর্তন করেছেন, তাদের নতুন এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসি আগামী নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্য হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
দেশে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকার সঠিকতা নিশ্চিত করা কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা অন্য এলাকায় বসবাস করছেন, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধা নিশ্চিত করতেই ভোটার এলাকা স্থানান্তরের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটারদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন ইস্যু এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের এই কার্যক্রম সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন।

























