বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
- আপডেট সময় : ১২:৪২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের ১২টি প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছে। এসব প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা।
১২ প্রকল্পে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত এই দাম আগে চুক্তি করা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনার খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াটের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র।
এ ছাড়া কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
অন্য প্রকল্পগুলো হবে মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে। এসব প্রকল্পের সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে।
সৌরবিদ্যুতে বর্তমান সক্ষমতা
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত। বাকি ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতেও প্রণোদনা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার।
এই কর্মসূচির আওতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
রামপাল ও সোনাগাজীতেও বড় প্রকল্প
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি জানান, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজনও কমবে।





















