বিমানের জন্য ১০টি এয়ারবাস কিনছে সরকার, অক্টোবরেই চুক্তি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ অক্টোবরেই চুক্তি হয়ে যাবে।’
তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বহরে যুক্ত হবে না। চুক্তি অনুযায়ী এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫, ২০৩৬ ও ২০৩৭ সালের দিকে পর্যায়ক্রমে দেশে আসতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে চাইলেই দ্রুত তা পাওয়া যায় না। বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির উড়োজাহাজগুলোও কয়েক বছর পর পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে।
বিমানের বহরে এখন ১৯ উড়োজাহাজ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রায় গ্রাউন্ডেড হওয়ার অবস্থায় রয়েছে। ফলে কার্যকরভাবে প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান বহরের কয়েকটি উড়োজাহাজ পুরোনো হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিমানের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপে বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ কেনা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও দ্রুত বহর বড় করা সম্ভব নয়।
বোয়িংয়ের ২৫ উড়োজাহাজও আসছে
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর আগে আরও ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের সংখ্যা ২৫টি।
চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বোয়িং উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে দেশে আসার কথা। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত অন্য উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করা হবে।
নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বহর বাড়াতে লিজের মাধ্যমেও অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বাড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
মন্ত্রী বলেন, বিমানের বহর বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য হলো ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। আরও ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বর্তমানে কার্যকর ১৭টি উড়োজাহাজের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে আরও স্লট কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। জাপানে বর্তমানে একটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘কোনো চাপের কারণে এয়ারবাস কেনা হচ্ছে না’
এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে কোনো চাপ বা শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো চাপের কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোন দেশ বা কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের প্রয়োজন, উপযোগিতা ও এভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোন ধরনের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের জন্য উপযোগী এবং কোথা থেকে কিনলে দেশের বেশি লাভ হবে, সেটিই বিবেচনার বিষয়।
শক্তিশালী হবে দেশের এভিয়েশন খাত
বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তার মতে, নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা গেলে এভিয়েশন খাত থেকে আয় বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের অর্থ দেশের মধ্যেই রাখার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব হিসেবে যাত্রীসেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি টিকিটের দাম কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।



























