বাবার কবর থেকে ফেরার পথে মেয়েকে সংঘবদ্ধ পাশবিক নির্যাতন, পরে আত্মহত্যা: ট্রাইব্যুনালে শহীদের স্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় আসার পর পটুয়াখালীতে বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে মেয়েকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ধর্ষণ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত এক শহীদের স্ত্রী। পরে গুরুতর মানসিক আঘাতে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাইব্যুনালে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ওই নারী। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দেন। মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৬ জন আসামি রয়েছেন।
বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে ধর্ষণের অভিযোগ
সাক্ষী জানান, স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বক্তব্য দিতে তিনি গত বছরের ১৭ মার্চ ভাই ও দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। সে সময় তার বড় মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন।
পরদিন মেয়েটি বাবার কবর জিয়ারত করতে যান। কবর থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তিনি বলেন, স্বামীর হত্যার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় আসার কারণেই তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়ে গুরুতর মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েন। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্বামী
সাক্ষ্যে ওই নারী তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার স্বামী একটি এনজিওতে চালক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে ট্রলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে দেখতে পান তিনি। স্বামী জানান, তার দুটি আঙুল উড়ে গেছে এবং বুকে গুলি লেগেছে। ওইদিন অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরে তাকে ঢাকার বনানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে ২৯ জুলাই তিনি মারা যান।
স্বামীর হত্যার বিচার দাবি
সাক্ষী আরও জানান, স্বামীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার অনুমতি পেতে তাকে বনানী ও মোহাম্মদপুর থানায় একাধিকবার যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ জুলাই তিনি মরদেহ বুঝে পান। পরদিন সকালে স্বামীর দাফন সম্পন্ন হয়।
সাক্ষ্যের শেষে তিনি স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেন।


























