ফলন ভালো হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় অখুশী নওগাঁয়ের আমচাষীরা
- আপডেট সময় : ০১:৫৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় আমের ফলন ভালো হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় মলিন চাষীদের মুখ। চাষিরা বলছেন, এখানে উৎপাদিত আম সুমিষ্ট হওয়ায় দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে আম সংরক্ষণাগার ও বৈদেশিক বাজার সৃষ্টি করতে পারলে ব্যাপক লাভবান হবেন তারা । তবে পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং ওজনে বেশি নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আম চাষীরা।
ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষির মধ্যদিয়ে জমে উঠেছে আম বাজার। নওগাঁ বরেন্দ্র এলাকা হওয়ায় এ জেলার আম সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। যার কদর রয়েছে দেশ ও দেশের বাইরে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর নওগাঁর বাজারে উঠেছে বিভিন্ন জাতের আম।
জেলার সাপাহার উপজেলার জিরো পয়েন্ট এবং পোরশা উপজেলার নোচনাহার বাজারে আমের বৃহৎ মোকাম গড়ে উঠেছে। চাষীরা বাগানের আম তুলে সকাল থেকে ভ্যান, ভটভটি সহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছে। চাষীরা বলছেন- এ বছর কীটনাশক, পানি সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় আম উৎপাদনে খরচ কিছুটা বেড়েছে।
আমের এই বৃহৎ পাইকারি বাজারে প্রকারভেদে প্রতিমণ আগাম জাতের আম ল্যাংড়া ১২’শ-২২’শ টাকা, নাকফজলি ১৫শ-২৭শ ও খিরসা / হিমসাগর ১৫শ-২৫শ টাকা, হাড়িভাংগা ১৮শ-২৫শ টাকা মন। এছাড়া আম্রপালি ২২শ-৪৫শ টাকা এবং ব্যানানা ম্যাংগো ৩-৪ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। আম চাষীদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে কেজিদরে আম বেচাকনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে ১ মন হিসেবে ৫০-৫২ কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
পাইকাররা বলছেন, এখানকার আম সুমিষ্ট হওয়ায় দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমের আড়তে কাজ করে বাড়তি আয় করছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন অন্তত ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করেন তারা।
তবে ব্যবসায়িরা বলছেন- চাষী ও আড়ৎদারের সমঝোতায় প্রশাসনের বেঁধে দেয়া নিয়মেই আম কেনাবেচা করছেন তারা। বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসেছেন এই বৃহৎ আম বাজারে। এছাড়া ব্যবসায়িদের সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান আড়ৎদার সমিতির নেতারা।
জেলার পোরশা উপজেলার নোচনাহার বাজারে শতাধিক আড়ৎ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা আর রপ্তানি বাড়াতে পারলে লাভবান হবেন চাষীরা। এ বছর জেলায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা কৃষি বিভাগের।

























