নেপালে জাতীয় শোক পালন, বন্যায় ১ হাজার ৩৪২ মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ দুর্যোগের ১৩তম দিনে এই শোক পালন করছে দেশটি। সর্বশেষ নেপাল পুলিশের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ৯৯২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৯৯৬ জন। উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত
গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার নেপালের সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। একইভাবে বিদেশে থাকা নেপালি দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনেও পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যা ও ধসে বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা
গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। এতে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রসুয়া ও আশপাশের এলাকায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো
সরকারি হিসাবে, বন্যা ও ভূমিধসে হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া জেলায় প্রায় ৪১ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস এবং আটটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
চলছে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তের কাজ
দুর্যোগের পর থেকে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্গম এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে অভিযান চলছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকেও নমুনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শনাক্ত না হওয়া মরদেহের তথ্য প্রকাশ করে স্বজনদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগের ১৩ দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করছে নেপাল।






















