০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই গোলের লিড হারিয়ে লিগ কাপ থেকে ইউনাইটেডের বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই গোলের লিড পেয়েও ম্যাচ ধরে রাখতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। বিপরীতে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাইটন।

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ইউনাইটেডের পক্ষে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের ব্যবধান তৈরি করে স্বাগতিকরা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলে ইউনাইটেড।

শেষ পর্যন্ত চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাইটন। ইউনাইটেডের শেষ মুহূর্তের চেষ্টা সত্ত্বেও আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।

১০ মিনিটেই দুই গোল ইউনাইটেডের

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই গোলের দেখা পায় তারা।

একাডেমির তরুণ শিয়া লেসি ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন। গোলের পর স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। মাত্র দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যাসন মাউন্ট।

১০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেনি ইউনাইটেড।

ব্রাইটন ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে সফরকারীরা। এর ফলও আসে প্রথমার্ধের শেষ দিকে।

যোগ করা সময়ে চারালামবোস কস্তুলাস ব্রাইটনের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। ফলে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র

বিরতির পর মাঠে নেমেই আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাইটন। ইউনাইটেডের রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে তারা।

৬৫ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় সফরকারীরা। ডি-বক্সের বাইরে জায়গা পেয়ে নিচু শটে গোল করেন পাসকাল গ্রস। তার নিখুঁত শটে পরাস্ত হন ইউনাইটেডের গোলরক্ষক।

গোলটির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ২-২ সমতায় ফেরার পর ব্রাইটন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে ইউনাইটেড।

চার মিনিটেই দুই গোল করে ব্রাইটনের কামব্যাক

সমতা ফেরানোর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যাচে বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড।

৬৯ মিনিটে ম্যাক্সিম ডি কাইপার গোল করে ব্রাইটনকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।

লিড হারানোর পর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণ বাড়াতে একাধিক পরিবর্তন আনেন মাইকেল ক্যারিক।

ব্রুনো ফের্নান্দেস, ম্যাথিউস কুনিয়া ও ব্রায়ান এমবুমোকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আর আসেনি।

শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ রাশফোর্ড

ম্যাচের শেষদিকে ইউনাইটেডের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মার্কাস রাশফোর্ডের মাধ্যমে। গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে যাওয়ার পরও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

রাশফোর্ডের সেই ব্যর্থতার পরও ইউনাইটেড চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে ব্রাইটনের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্গ অক্ষত রাখে।

নির্ধারিত সময় শেষ হলে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে ব্রাইটন। ফলে কারাবাও কাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় তারা।

তৃতীয় রাউন্ডেই শেষ ইউনাইটেডের অভিযান

এই হারের ফলে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। বিশেষ করে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারায় হতাশা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে দুই গোলের ঘাটতি কাটিয়ে জয় পাওয়ায় ব্রাইটনের জন্য এটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করেছিল তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

ক্যারিকের দলের ওপর বাড়ছে চাপ

ব্রাইটনের বিপক্ষে এই হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য আরও একটি হতাশাজনক ফল। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।

পরপর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর ক্যারিকের দলকে এখন নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে ব্রাইটনের বিপক্ষে দুই গোলের লিড পেয়েও সেটি ধরে রাখতে না পারা রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

লিগ কাপ থেকে বিদায়ের পর এখন ইউনাইটেডের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সামনে লিগের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা ফেরানোই হবে দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুই গোলের লিড হারিয়ে লিগ কাপ থেকে ইউনাইটেডের বিদায়

আপডেট সময় : ০৩:০০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই গোলের লিড পেয়েও ম্যাচ ধরে রাখতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। বিপরীতে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাইটন।

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ইউনাইটেডের পক্ষে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের ব্যবধান তৈরি করে স্বাগতিকরা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলে ইউনাইটেড।

শেষ পর্যন্ত চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাইটন। ইউনাইটেডের শেষ মুহূর্তের চেষ্টা সত্ত্বেও আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।

১০ মিনিটেই দুই গোল ইউনাইটেডের

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই গোলের দেখা পায় তারা।

একাডেমির তরুণ শিয়া লেসি ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন। গোলের পর স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। মাত্র দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যাসন মাউন্ট।

১০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেনি ইউনাইটেড।

ব্রাইটন ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে সফরকারীরা। এর ফলও আসে প্রথমার্ধের শেষ দিকে।

যোগ করা সময়ে চারালামবোস কস্তুলাস ব্রাইটনের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। ফলে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র

বিরতির পর মাঠে নেমেই আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাইটন। ইউনাইটেডের রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে তারা।

৬৫ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় সফরকারীরা। ডি-বক্সের বাইরে জায়গা পেয়ে নিচু শটে গোল করেন পাসকাল গ্রস। তার নিখুঁত শটে পরাস্ত হন ইউনাইটেডের গোলরক্ষক।

গোলটির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ২-২ সমতায় ফেরার পর ব্রাইটন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে ইউনাইটেড।

চার মিনিটেই দুই গোল করে ব্রাইটনের কামব্যাক

সমতা ফেরানোর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যাচে বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড।

৬৯ মিনিটে ম্যাক্সিম ডি কাইপার গোল করে ব্রাইটনকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।

লিড হারানোর পর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণ বাড়াতে একাধিক পরিবর্তন আনেন মাইকেল ক্যারিক।

ব্রুনো ফের্নান্দেস, ম্যাথিউস কুনিয়া ও ব্রায়ান এমবুমোকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আর আসেনি।

শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ রাশফোর্ড

ম্যাচের শেষদিকে ইউনাইটেডের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মার্কাস রাশফোর্ডের মাধ্যমে। গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে যাওয়ার পরও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

রাশফোর্ডের সেই ব্যর্থতার পরও ইউনাইটেড চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে ব্রাইটনের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্গ অক্ষত রাখে।

নির্ধারিত সময় শেষ হলে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে ব্রাইটন। ফলে কারাবাও কাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় তারা।

তৃতীয় রাউন্ডেই শেষ ইউনাইটেডের অভিযান

এই হারের ফলে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। বিশেষ করে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারায় হতাশা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে দুই গোলের ঘাটতি কাটিয়ে জয় পাওয়ায় ব্রাইটনের জন্য এটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করেছিল তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

ক্যারিকের দলের ওপর বাড়ছে চাপ

ব্রাইটনের বিপক্ষে এই হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য আরও একটি হতাশাজনক ফল। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।

পরপর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর ক্যারিকের দলকে এখন নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে ব্রাইটনের বিপক্ষে দুই গোলের লিড পেয়েও সেটি ধরে রাখতে না পারা রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

লিগ কাপ থেকে বিদায়ের পর এখন ইউনাইটেডের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সামনে লিগের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা ফেরানোই হবে দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।