দাউদকান্দিতে ভাঙা সেতুই ভরসা, আতঙ্কে হাজারো মানুষের চলাচল
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনাবাজ-বড় ভবানীপুর এলাকার বাজারখোলা খালের ওপরের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।
পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুর মাঝের একটি পিলার দেবে যায়। এতে সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরে আরও কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে সেতুটির বেশ কিছু অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি প্রতিদিন বহু মানুষ হেঁটেও সেতুটি পার হচ্ছেন।
আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও রোগীরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারাও চলাচলের জন্য সেতুটির ওপর নির্ভরশীল।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পার হতে হয়।
এ ছাড়া অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও স্বজনদের আতঙ্কে থাকতে হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেতুটি পার হওয়ার সময় যেকোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী, রোমানা খাতুন, আবু সুফিয়ানসহ অনেকে বলেন, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে এই সেতু পার হওয়া খুবই কঠিন। কখন গাড়িসহ যাত্রী নিচে পড়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি একই অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় অবগত রয়েছে। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সেতুর বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, মেরামতের উপযোগী প্রায় ৭০টি সেতু চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সেতুর তালিকা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সেতুগুলোর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।























