ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই, আলোচনায় একাধিক পরিচিত মুখ
- আপডেট সময় : ১১:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও শিগগির ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা বেড়েছে।
বর্তমান ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য গঠন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা বিলম্বিত হয়।
সূত্র বলছে, নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় ২০১৩-১৪ সেশন থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নাম রয়েছে।
এছাড়া ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলম; ২০১৫-১৬ সেশন থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও আবিদুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
২০১৬-১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান এবং শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।
এদিকে ২০১৭-১৮ সেশন থেকে আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ও সাইফুল্লাহ সাইফের নামও আলোচনায় রয়েছে।
ঢাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বা কোনো সিন্ডিকেটের পরিবর্তে সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পদপ্রত্যাশী জসিম খান বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বই সংগঠনের প্রত্যাশা।
আলমগীর হোসেন আলম বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশামতো গড়ে ওঠেনি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করতে সক্ষম এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের নেতৃত্বে আনা জরুরি।
আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটির বিষয়ে তার কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।























