০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিম-মাছ-সবজির দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বাজারে ডিম, মাছ ও সবজির চড়া দামে নাকাল হচ্ছেন ক্রেতারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যতম ভরসার খাবার ডিমের দামও এখন বেশ বাড়তি। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা দরে। এক ডজন ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

১০০ টাকার ওপরে বেশির ভাগ সবজি

রাজধানীর বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

বরবটি, ঝিঙে ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। শিমের দাম আরও বেশি। আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা দরে। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের দাম তুলনামূলক কম

সবজির তুলনায় বিভিন্ন শাকের দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক। লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। কচু শাক পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি।

বাজারের ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে এখন তেমন কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। টমেটো, বেগুন ও করলার মতো সবজি কিনতে ১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা যারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কামাই করি, তারা মাছ কিনব, সবজি কিনব নাকি চাল কিনব। সরকারের উচিত আমাদের কথা ভাবা।”

ডিমের দামেও স্বস্তি নেই

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও ডিমের দাম এখনো বাড়তি।

প্রতি হালি ডিম ৫৫ টাকা এবং প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ফার্মের মুরগির ডিম এখন ৫৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। দাম কমার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।

গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা দিয়ে।

চড়া মাছের বাজার

সবজি ও ডিমের পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ২৬০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, মাছের দাম মূলত আকার, মান ও জীবিত বা মৃত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। বাজার ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে একই মাছের দামে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে।

সরবরাহ কম থাকলে কিংবা বড় মাছের চাহিদা বাড়লে দাম আরও বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ডিম-মাছ-সবজির দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে ডিম, মাছ ও সবজির চড়া দামে নাকাল হচ্ছেন ক্রেতারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যতম ভরসার খাবার ডিমের দামও এখন বেশ বাড়তি। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা দরে। এক ডজন ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

১০০ টাকার ওপরে বেশির ভাগ সবজি

রাজধানীর বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

বরবটি, ঝিঙে ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। শিমের দাম আরও বেশি। আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা দরে। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের দাম তুলনামূলক কম

সবজির তুলনায় বিভিন্ন শাকের দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক। লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। কচু শাক পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি।

বাজারের ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে এখন তেমন কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। টমেটো, বেগুন ও করলার মতো সবজি কিনতে ১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা যারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কামাই করি, তারা মাছ কিনব, সবজি কিনব নাকি চাল কিনব। সরকারের উচিত আমাদের কথা ভাবা।”

ডিমের দামেও স্বস্তি নেই

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও ডিমের দাম এখনো বাড়তি।

প্রতি হালি ডিম ৫৫ টাকা এবং প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ফার্মের মুরগির ডিম এখন ৫৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। দাম কমার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।

গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা দিয়ে।

চড়া মাছের বাজার

সবজি ও ডিমের পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ২৬০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, মাছের দাম মূলত আকার, মান ও জীবিত বা মৃত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। বাজার ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে একই মাছের দামে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে।

সরবরাহ কম থাকলে কিংবা বড় মাছের চাহিদা বাড়লে দাম আরও বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।