ড. ইউনূসকে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাবেক ১২ উপদেষ্টার বিবৃতি
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি, অনলাইন অপপ্রচার, শারীরিক হুমকি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। এসব ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কারের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ইউনূস সরকারের ভূমিকার প্রশংসা
বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা উল্লেখ করেন, চরম সংকটের মুখে থাকা রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের চর্চা বন্ধ করার ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকার ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বশীলভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।
অপপ্রচার ও শারীরিক হুমকি নিয়ে উদ্বেগ
ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও অধ্যাপক ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং শারীরিক হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক উপদেষ্টারা।
তাঁদের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে অধ্যাপক ইউনূসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন ও জনসমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত আক্রমণ নয়; বরং এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ও সংস্কারের অঙ্গীকার অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান
যৌথ বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা স্পষ্ট করে বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনলাইন অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ম্যান্ডেট নস্যাৎ করা সম্ভব নয়।
তাঁদের মতে, তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করা জরুরি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, মানবাধিকার এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১২ সাবেক উপদেষ্টা
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। তাঁরা হলেন—অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. এম. ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন (অব.), বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিবৃতিতে তাঁরা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানি, অপপ্রচার ও শারীরিক হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




















