জনশক্তি রপ্তানি এজেন্সির ঠিকানায় নেই প্রতিষ্ঠান, বাড়ছে প্রতারণা
- আপডেট সময় : ১২:২৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
জনশক্তি রপ্তানিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি শ্বেতপত্রে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এর পরও তৎকালীন সরকার শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন লাইসেন্স দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই লাইসেন্সের শর্ত যথাযথভাবে পালন করেনি।
একই ঠিকানায় একাধিক এজেন্সির লাইসেন্স
লাইসেন্স পাওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ধরে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা অসঙ্গতি। রাজধানীর পল্টনের চায়না টাউন ও পাশের সিটি হার্ট সেন্টারে তালিকাভুক্ত ২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির ঠিকানা পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালে ওই ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন করেছিল। পরে তার ছোট ভাইও একই ঠিকানায় আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে আলাদা অফিস নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
লাইসেন্সের ঠিকানায় নেই প্রতিষ্ঠান
শুধু একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, লাইসেন্স আবেদনে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
এমনই একটি প্রতিষ্ঠান সুমন রিক্রুটিং এজেন্সি। লাইসেন্সে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম পাওয়া যায়নি। সেখানে বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই জায়গায় আগে সুমন রিক্রুটিং এজেন্সি ছিল। ২০২৪ সালের জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে তারা অফিসটি ছেড়ে দেয়। পরে অন্য একটি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান সেখানে অফিস নেয়।
সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্য মেলেনি
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে কল এবং মেসেজ করা হলেও কোনো উত্তর মেলেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
এজেন্সিতে আসছে গ্রেডিং ব্যবস্থা
একই ব্যক্তির একাধিক লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি সরকারের জানা আছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি জানান, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নে আগামীতে গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। নতুন ও পুরোনো সব এজেন্সিকে কাজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে র্যাংকিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অফিস নেই বা কাজের পারফরম্যান্স নেই, তারা স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়বে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গ্রেডিং করা হলে বর্তমানে থাকা চার থেকে পাঁচশ লাইসেন্সের বেশি প্রতিষ্ঠান যোগ্য হিসেবে টিকে থাকবে না।
এজেন্সির সংখ্যা কমানোর দাবি রামরুর
জনশক্তি রপ্তানির বাজারে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা না কমিয়ে বরং বাড়ানোয় খাতটির সংস্কার কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
রামরুর নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যাদের একাধিক লাইসেন্স রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করে এজেন্সির সংখ্যা একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা দরকার।
নতুন শ্রমবাজারে প্রতারক চক্রের তৎপরতা
এদিকে নতুন করে বিভিন্ন শ্রমবাজার খোলার খবরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অস্তিত্ব, অফিসের ঠিকানা ও কার্যক্রম নিয়মিত যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিদেশগামী কর্মীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।





















