চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বিদেশিদের সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ক
- আপডেট সময় : ০১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ফ্ল্যাট এবং হোটেল কক্ষ ভাড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একাধিক বিদেশি চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর বিষয়টি সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিলাসবহুল ভবন ও হোটেল কক্ষ ভাড়া নিয়ে এসব জায়গায় তৈরি করা হয় আধুনিক কল সেন্টার ও সাউন্ডপ্রুফ ল্যাব। বাইরে থেকে স্বাভাবিক আবাসিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম মনে হলেও ভেতরে চলত অনলাইন প্রতারণার নানা কার্যক্রম। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রামে আড়াই হাজারের কাছাকাছি বিদেশি নাগরিক
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ও স্টুডেন্ট ভিসায় চট্টগ্রামে এসেছেন ২ হাজার ২৬৯ জন বিদেশি নাগরিক।
এদের সবাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো তথ্য নেই। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে বিদেশি নাগরিকদের কয়েকটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা সামনে আসায় তাদের কার্যক্রম ও অবস্থান নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীরা বাংলাদেশকে তুলনামূলক নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে আরও নাম আসার সম্ভাবনা
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ফয়সাল আহমেদ জানান, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। পাশাপাশি সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, একটি চক্রের পেছনে আরও ব্যক্তি বা সংগঠন কাজ করতে পারে। তাই গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
কেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরাধীদের আকৃষ্ট করতে পারে। চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অন্যদিকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য পরিচিত।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রকৌশলী মীর মু. সাক্বী কাওসার বলেন, এসব এলাকায় সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে এখানে অর্থের প্রবাহও বেশি। ফলে সচেতনতা কম এবং অর্থের প্রবাহ বেশি—এমন এলাকাকে অপরাধীরা ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক ভবন বা হোটেলে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই না হলে অপরাধীরা সহজেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে। একইভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত অপরাধ শনাক্ত করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আরও সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাট, হোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় সন্দেহজনক প্রযুক্তিগত কার্যক্রম থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অনলাইন প্রতারণা বা জুয়ার অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এসব চক্র দেশের সাইবার নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।





















