কারাগারে ভিডিও কল সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
কারাগারে থাকা বন্দিদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ভিডিও কল সুবিধা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই দেশের অন্যান্য কারাগারেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে কারাবন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কারাগারের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যকর ও সবুজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে উদ্যোগ
কারাবন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে সক্ষমতা
বন্দিদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারগুলোর স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
নিরাপদ পানি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ
বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে পানি সরবরাহও শুরু হয়েছে।
কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন পর্যায়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের এসব প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
আধুনিক হচ্ছে খাবার প্রস্তুত ব্যবস্থা
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রুটি তৈরির কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বড় সংখ্যক বন্দির জন্য দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রুটি তৈরির লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এতে একই মানের রুটি কম সময়ে প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষ দিবসগুলোতে বন্দিদের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কারাগারে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারাগারে বন্দিদের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি এবং বেকারির কাজেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।


























