যৌনাঙ্গ চুরির গুজবে আফ্রিকার ছয় দেশে নিহত ৮০ জনের বেশি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে অদ্ভুত এক গুজব। দাবি করা হচ্ছে, অপরিচিত কেউ পুরুষের শরীরে হাত দিয়ে টোকা দিলেই তার যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যেতে বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। এই মিথ্যা দাবিকে কেন্দ্র করে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ছয় দেশে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বিবিসির গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট বিভিন্ন দেশের পুলিশি তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে গুজবটি অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশগুলো হলো—ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, বুরুন্ডি, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই ও কেনিয়া।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে গুজব
এই গুজব নতুন নয়। আফ্রিকার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাদুটোনা ও কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে এমন দাবি ছড়িয়ে আসছে। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তা দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে টিকটক ও ফেসবুকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ভিডিওতে কথিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, হামলার দৃশ্য এবং নানা সতর্কবার্তা ছড়ানো হয়। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
গুজবের জেরে অনেক মানুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাদের ওপর হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। কোথাও কোথাও এসব হামলা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
তানজানিয়ায় হামলার শিকার দুই ব্যক্তি
তানজানিয়ার তুন্দুমা শহরে এ ধরনের একটি ঘটনায় মেকানিক বনিফাস এমগালা ও তার এক বন্ধুকে হামলার শিকার হতে হয়।
এপ্রিল মাসে গাড়ি বিক্রির জন্য এক ক্রেতার সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন তারা। পরে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে বসেন। কিছুক্ষণ পর একদল মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
জনতার অভিযোগ ছিল, তারা নাকি কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছেন। এরপর দুজনকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত হন এমগালা। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার বন্ধু মারা গেছেন।
মোজাম্বিকে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি
এই গুজবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মোজাম্বিকে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র ছয় সপ্তাহে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি কর্মচারীও ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো গুজব ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, কারও শরীরের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসাগত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং আতঙ্কের কিছু ঘটনা কোরো সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি মনে করতে পারেন, তার যৌনাঙ্গ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে বা শরীরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
কেনিয়া ও মালাউইয়েও প্রাণহানি
কেনিয়ার উপকূলীয় কোয়ালে ও মোম্বাসা কাউন্টিতেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
মোম্বাসা কাউন্টির কমিশনার মোহাম্মদ নূর অভিযোগ করেছেন, কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বেশি ভিউ ও এনগেজমেন্ট পাওয়ার জন্য এসব দাবি ছড়িয়েছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী মালাউইয়েও একই গুজবকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হয়েছে। সেখানে আটজন নিহত হয়েছেন।
গুজবের পেছনে সামাজিক মাধ্যম
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যম মিথ্যা তথ্যকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। একটি ভিডিও বা পোস্ট মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
ফলে যাচাই না করা কোনো দাবি অনেকের কাছে সত্য বলে মনে হতে পারে। এভাবেই অনলাইনের গুজব বাস্তব জীবনে সহিংসতার কারণ হয়ে উঠছে।
আফ্রিকার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে গুজবের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত না করার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
























