কাদের-সাদ্দামসহ ৭ নেতার সর্বোচ্চ সাজা চাইল প্রসিকিউশন
- আপডেট সময় : ০২:১৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ করে এ দাবি জানানো হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, আহত করা ও সহিংসতার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের অনুকম্পা ছাড়া আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে বলা হয়, আন্দোলন দমনে আসামিরা নির্দেশ, উসকানি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন বৈঠক, বক্তব্য ও ফোনালাপসহ বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
ষষ্ঠ দিনের মতো চলা যুক্তিতর্কে শুরুতে আইনি বিষয় তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে চিফ প্রসিকিউটর যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।
মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন- ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। টানা পাঁচ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি তুলে ধরে। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।























