ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট করল বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৩:০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৩৫৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। একাই তুলে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট। দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তবে বল হাতে দারুণ সাফল্যের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ২২ রান তুলতেই দুই ওপেনারকে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলছে। আগের দিন টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে পেসাররা ভালো বোলিং করলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।
প্রথম দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৪৫ রান। দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস। তাঁদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা।
তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে নতুন বলে বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হাসান মাহমুদের আগুনঝরা বোলিং, এক ইনিংসে ছয় উইকেট
দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করেন হাসান মাহমুদ। দিনের প্রথম সেশনেই সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন তিনি। প্রথমে সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন।
আগের দিন জাঙ্গুর ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি হাসান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। তবে দ্বিতীয় দিন আর তাঁকে ছাড় দেননি বাংলাদেশের এই পেসার। সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান জাঙ্গুকে।
২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
জাঙ্গুকে ফেরানোর পরের বলেই অধিনায়ক রোস্টন চেজকে আউট করেন হাসান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান।
হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরের ব্যাটার জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন হাসান। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তাঁর ব্যাটে লেগেছিল।
তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই ব্যাটার। পরে তাঁকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসান। এরপর সামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন হাসান। পাশাপাশি বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো এই সাফল্য পেলেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচবার ফাইফার নেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।
৩৫৬ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আমির জাঙ্গুর ১৩৩ রানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জাস্টিন গ্রিভস। তিনি করেন ৫১ রান। প্রথম দিনের শেষ দিকে জাঙ্গুর সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেছিলেন এই ব্যাটার।
এ ছাড়া শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিকান ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ছয়টি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ পান দুটি উইকেট। আগের দিন তাসকিন আহমেদ নিয়েছিলেন দুটি উইকেট।
অন্যদিকে নতুন দিনে তাসকিন আর কোনো উইকেটের দেখা পাননি। মিরাজ শেষ দিকে জেইডেন সিলসকে ফিরিয়ে ৩৩ রানের শেষ জুটি ভেঙে দেন।
ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে বাংলাদেশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা।
পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জেইডেন সিলসের বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান নাঈম হাসান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান।
প্রথম উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। জাস্টিন গ্রিভসের বলে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম। তিনি করেন ১৬ রান।
ফলে মাত্র ২২ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হন। এখন দলের পরবর্তী ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।
চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান
দ্বিতীয় দিনের খেলায় বাংলাদেশের জন্য আরেকটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওপেনার সাদমান ইসলামের চোট। ফিল্ডিং করার সময় বাঁ পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান তিনি।
ঘটনাটি ঘটে মেহেদী হাসান মিরাজের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে। আমির জাঙ্গুর খেলা বলটি লেগ সাইড দিয়ে সীমানার দিকে যাচ্ছিল। বলটি আটকাতে পিছু নেন সাদমান।
সীমানার কাছাকাছি গিয়ে নিচু হয়ে বল থামানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি মাটিতে আটকে যায়। মুহূর্তেই তীব্র ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সাদমানকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন দলের ফিজিও। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মাঠে শুয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।
পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় সাদমানকে। তাঁর চোটের ধরন ও মাঠে ফেরার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
সাদমান ব্যাটিং করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তিনি ব্যাট করতে না পারলে বাংলাদেশের ইনিংসে সেটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিং জুটি দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের সামনে বড় সংগ্রহ গড়ার চ্যালেঞ্জ
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম ইনিংসে ভালো সংগ্রহ গড়ার চ্যালেঞ্জ। হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হলেও ব্যাটিংয়ে শুরুতেই দুই উইকেট হারানো স্বাগতিকদের জন্য চিন্তার বিষয়।
বিশেষ করে সাদমানের চোটের কারণে ওপেনিং বিভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টকে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা শুরুতেই সাফল্য পাওয়ায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে।
এখন বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। উইকেটে সময় কাটিয়ে জুটি গড়তে পারলে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হবে।
বল হাতে হাসান মাহমুদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

























