০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ওয়ারীর সাবেক ডিসিসহ চারজনের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে আলোচিত পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দেশের সব ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যাদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তাদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং জমি-জমার নথিপত্র যাচাই করা হবে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও অর্জনের সঙ্গে আয়কর বিবরণীর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকার ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি সরকারি সম্পত্তি শহীদ বুদ্ধিজীবী এ কে এম শামসুল হক খানের পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের শেষ দিকে ওই ভবনটি ভেঙে দখল করেন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভবনটি ভাঙা এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। তাদের সহযোগিতায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবনের বেজমেন্ট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে সংস্থাটি।

ওই অভিযোগপত্রে শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনের সম্পদ জব্দের আবেদনও জানানো হয়েছিল। সম্পত্তি দখলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হয়।

ইব্রাহিম খান ও ওসি সাহিদুরের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ

নতুন করে এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার ইব্রাহিম খান এবং বংশাল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহিদুর রহমান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। এবার তাদের পাশাপাশি শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনের সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করছে দুদক।

সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, চারজনের সম্পদের বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

এ জন্য দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস যাচাই করা হবে।

দুদকের এ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ব্যাংক আমানত, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি তাদের পরিচিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের পরিমাণের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

রেলের ঠিকাদার সালাউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধেও মামলা

এদিকে রেলের আলোচিত ঠিকাদার সালাউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অধিকাংশ ট্রেনের কার্যক্রমের ওপর সালাউদ্দিন রিপনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। রেলের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ওয়ারীর সাবেক ডিসিসহ চারজনের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে আলোচিত পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দেশের সব ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যাদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তাদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং জমি-জমার নথিপত্র যাচাই করা হবে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও অর্জনের সঙ্গে আয়কর বিবরণীর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকার ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি সরকারি সম্পত্তি শহীদ বুদ্ধিজীবী এ কে এম শামসুল হক খানের পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের শেষ দিকে ওই ভবনটি ভেঙে দখল করেন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভবনটি ভাঙা এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। তাদের সহযোগিতায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবনের বেজমেন্ট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে সংস্থাটি।

ওই অভিযোগপত্রে শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনের সম্পদ জব্দের আবেদনও জানানো হয়েছিল। সম্পত্তি দখলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হয়।

ইব্রাহিম খান ও ওসি সাহিদুরের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ

নতুন করে এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার ইব্রাহিম খান এবং বংশাল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহিদুর রহমান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সম্পত্তি দখলের ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। এবার তাদের পাশাপাশি শেখ জাবেদ উদ্দিন ও মেরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনের সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করছে দুদক।

সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, চারজনের সম্পদের বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

এ জন্য দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস যাচাই করা হবে।

দুদকের এ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ব্যাংক আমানত, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি তাদের পরিচিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের পরিমাণের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

রেলের ঠিকাদার সালাউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধেও মামলা

এদিকে রেলের আলোচিত ঠিকাদার সালাউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অধিকাংশ ট্রেনের কার্যক্রমের ওপর সালাউদ্দিন রিপনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। রেলের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।