০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে ভোক্তাদের জিম্মি করা এবং মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না। এ ক্ষেত্রে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জ্বালানিমন্ত্রী।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে

বৈঠক শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জ্বালানি আমদানির অন্যান্য উৎস নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চেষ্টা করছে, যাতে দেশের ভোক্তারা সহনীয় দামে জ্বালানি পেতে পারেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

জ্বালানিমন্ত্রীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব যেন সরাসরি ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের মাধ্যমে এলপিজির দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ধর্মঘট করলে প্রয়োগ হবে ১৯৫৬ সালের আইন

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, “কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।”

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আস্থা নিয়ে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। তাই সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

এ কারণে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

ধর্মঘটের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ধর্মঘটের কথা বলছেন, তাদের আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

মন্ত্রী মনে করেন, জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি নিলে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও বাজারে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যাগুলো নিয়েই এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং বাজারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এলপিজির দাম ও সরবরাহ নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের মধ্যে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে ভোক্তাদের জিম্মি করা এবং মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না। এ ক্ষেত্রে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জ্বালানিমন্ত্রী।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে

বৈঠক শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জ্বালানি আমদানির অন্যান্য উৎস নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চেষ্টা করছে, যাতে দেশের ভোক্তারা সহনীয় দামে জ্বালানি পেতে পারেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

জ্বালানিমন্ত্রীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব যেন সরাসরি ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের মাধ্যমে এলপিজির দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ধর্মঘট করলে প্রয়োগ হবে ১৯৫৬ সালের আইন

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, “কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।”

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আস্থা নিয়ে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। তাই সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

এ কারণে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

ধর্মঘটের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ধর্মঘটের কথা বলছেন, তাদের আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

মন্ত্রী মনে করেন, জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি নিলে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও বাজারে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যাগুলো নিয়েই এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং বাজারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এলপিজির দাম ও সরবরাহ নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের মধ্যে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।