০১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি ও সমমানে এবার প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ফেল, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে এবার ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

পাসের হার ও জিপিএ-৫

এবারের ফলাফলে পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। সেই তুলনায় দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা অনেক কমেছে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

এবারের ফলাফলে উদ্বেগজনক আরেকটি দিক হলো, দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে, কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। যেমন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করেছেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী।

যেভাবে জানা যাচ্ছে ফলাফল

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। এ ছাড়া মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানার সুযোগ রয়েছে।

অনলাইনে ফল জানতে শিক্ষার্থীদের eduboardresults.gov.bd অথবা educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একই ওয়েবসাইটের Result কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর ব্যবহার করে নিজ প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে।

এসএমএসে ফল জানার নতুন নম্বর

এবার এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার নম্বর পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড। আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে ফল জানা যেত। তবে ২০২৬ সালে নতুন নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬১৪০।

এসএমএসে ফল জানতে প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে পরীক্ষার নাম, বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর। এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।

উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই

গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ করা হয়। এরপর থেকেই ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এবারের ফলাফলে পাস ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যার ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এইচএসসি ও সমমানে এবার প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ফেল, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসাবে এবার ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

পাসের হার ও জিপিএ-৫

এবারের ফলাফলে পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। সেই তুলনায় দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা অনেক কমেছে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

এবারের ফলাফলে উদ্বেগজনক আরেকটি দিক হলো, দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে, কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। যেমন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করেছেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী।

যেভাবে জানা যাচ্ছে ফলাফল

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। এ ছাড়া মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানার সুযোগ রয়েছে।

অনলাইনে ফল জানতে শিক্ষার্থীদের eduboardresults.gov.bd অথবা educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একই ওয়েবসাইটের Result কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর ব্যবহার করে নিজ প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে।

এসএমএসে ফল জানার নতুন নম্বর

এবার এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার নম্বর পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড। আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে ফল জানা যেত। তবে ২০২৬ সালে নতুন নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬১৪০।

এসএমএসে ফল জানতে প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে পরীক্ষার নাম, বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর। এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।

উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই

গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ করা হয়। এরপর থেকেই ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এবারের ফলাফলে পাস ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যার ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।