এআই এর ভয়ংকর অধ্যায় জানলে অবাক হবেন আপনি!
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআইয়ের’ বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই।
সোমবার ৯ জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে। মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এ অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক।
টেসলা ও স্পেস-এক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ৩৮ মিলিয়ন ডলার প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়।
অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এ পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’-কে এগিয়ে নিতে এ মামলা করেছেন।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গন-জালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এ মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।
জুরিদের নীরবতা, বিচারকের কঠোর দৃষ্টি, আর বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ এই রায় শুধু ঠিক করবে কে জিতবে বা হারবে তা নয়; এটি নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—মানবতার বন্ধু হবে, নাকি ক্ষমতার হাতিয়ার।
























