ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না কোনো জোট, এগিয়ে নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় : ০১:২০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে সম্পূর্ণ ভোট গণনা শেষে কোনো দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। চূড়ান্ত ফলাফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রথম প্রহরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
দলভিত্তিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই এককভাবে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য দলের সমর্থন আদায় করতে হবে।
আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন জয়
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে আরব দলগুলো। তারা সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে এটি তাদের অন্যতম বড় অর্জন।
এর আগে সর্বশেষ নির্বাচনে আরব দলগুলো পেয়েছিল ১০টি আসন। এবার সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর কারচুপির অভিযোগ ভিত্তিহীন
নির্বাচনের আগে আরব ভোটারদের কাতারের অর্থায়নে প্রভাবিত করা এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে দেশটির নির্বাচন কমিটি ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে।
এদিকে নগদ অর্থসহ আরব দলের তিন কর্মীকে আটকের ঘটনাও ওই তদন্তের অংশ নয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করে নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যেই নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ তুলছেন। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
সরকার গঠন নিয়ে শুরু হবে আলোচনা
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলাফল জমা পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করবেন।
পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন কোনো একজন দলীয় নেতাকে।
দীর্ঘ হতে পারে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
আগামী ১০ নভেম্বর ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে কোনো জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বিশেষ করে ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জোট গঠনের আলোচনা নতুন সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ অবস্থায় নির্বাচনে এগিয়ে থেকেও নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করতে পারে।





















