০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ নামে ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গ্যালশিওট।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ৮ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। এতে ট্রাম্পের এক হাতে রয়েছে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা এবং অন্য হাতে একটি দীর্ঘ গলফ ক্লাব। তার পাশে থাকা গলফ বলটি বিশ্বের মানচিত্রের আদলে তৈরি করা হয়েছে।

ছোট এক ব্যক্তির কাঁধে ট্রাম্প

ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে পোশাক পরা ছোট আকারের এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ট্রাম্পের পুরো ওজন বহন করছেন। শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ক্ষমতার ভারে সাধারণ মানুষের ওপর তৈরি হওয়া চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভাস্কর্যটির বেদিতে একটি বার্তাও লেখা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি এক ব্যক্তির পিঠে বসে আছি। আমার ভারে সে ধসে পড়ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি সব করতে পারি, শুধু তার পিঠ থেকে নামা ছাড়া।’

কেন ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ নাম

শিল্পী জেনস গ্যালশিওটের মতে, ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার প্রভাব নিয়ে সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মনে করেন, আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টার জন্য ট্রাম্প বড় ধরনের হুমকি।

গ্যালশিওট বলেন, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রভাবকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকে অনুপ্রেরণা

শিল্পীর দাবি, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেররস নিউ ক্লোথস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকে অনুপ্রাণিত।

গল্পটিতে একজন অহংকারী শাসক নিজেকে অসাধারণ পোশাকে সজ্জিত মনে করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন নগ্ন। ভয় ও তোষামোদের কারণে আশপাশের মানুষ বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে সাহস পায় না। পরে একটি শিশু তার নগ্নতার কথা প্রকাশ করে দেয়।

গ্যালশিওটের ভাষ্য, ভাস্কর্যটির সোনালি আবরণও প্রতীকী। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো হলেও এই প্রলেপ ট্রাম্পের নগ্নতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন সম্মেলনে প্রদর্শন

স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনকে যুক্তকারী ব্যস্ত একটি মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি সেখানে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ভাস্কর্যটি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলন এবং চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনেও প্রদর্শন করা হয়েছিল।

ভাস্কর্যটি মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের শিল্পকর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং তার নীতির সম্ভাব্য প্রভাবকে প্রতীকী নানা উপাদানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শিল্পী।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ নামে ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গ্যালশিওট।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ৮ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। এতে ট্রাম্পের এক হাতে রয়েছে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা এবং অন্য হাতে একটি দীর্ঘ গলফ ক্লাব। তার পাশে থাকা গলফ বলটি বিশ্বের মানচিত্রের আদলে তৈরি করা হয়েছে।

ছোট এক ব্যক্তির কাঁধে ট্রাম্প

ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে পোশাক পরা ছোট আকারের এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ট্রাম্পের পুরো ওজন বহন করছেন। শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ক্ষমতার ভারে সাধারণ মানুষের ওপর তৈরি হওয়া চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভাস্কর্যটির বেদিতে একটি বার্তাও লেখা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি এক ব্যক্তির পিঠে বসে আছি। আমার ভারে সে ধসে পড়ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি সব করতে পারি, শুধু তার পিঠ থেকে নামা ছাড়া।’

কেন ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ নাম

শিল্পী জেনস গ্যালশিওটের মতে, ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার প্রভাব নিয়ে সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মনে করেন, আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টার জন্য ট্রাম্প বড় ধরনের হুমকি।

গ্যালশিওট বলেন, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রভাবকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকে অনুপ্রেরণা

শিল্পীর দাবি, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেররস নিউ ক্লোথস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকে অনুপ্রাণিত।

গল্পটিতে একজন অহংকারী শাসক নিজেকে অসাধারণ পোশাকে সজ্জিত মনে করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন নগ্ন। ভয় ও তোষামোদের কারণে আশপাশের মানুষ বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে সাহস পায় না। পরে একটি শিশু তার নগ্নতার কথা প্রকাশ করে দেয়।

গ্যালশিওটের ভাষ্য, ভাস্কর্যটির সোনালি আবরণও প্রতীকী। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো হলেও এই প্রলেপ ট্রাম্পের নগ্নতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন সম্মেলনে প্রদর্শন

স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনকে যুক্তকারী ব্যস্ত একটি মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি সেখানে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ভাস্কর্যটি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলন এবং চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনেও প্রদর্শন করা হয়েছিল।

ভাস্কর্যটি মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের শিল্পকর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং তার নীতির সম্ভাব্য প্রভাবকে প্রতীকী নানা উপাদানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শিল্পী।