০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের চার নেতার মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন আইনি লড়াই করছেন।

সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন

মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে হানিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে অংশ নেন এবং অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, হানিফ বেসামরিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নির্দেশনা ও টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা এবং দলীয় নেতাদের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আরও অভিযোগ, টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হানিফ। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর তামিম যুক্তিতর্কে বলেন, একই ধরনের অপরাধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে কারণে একই অবস্থানে থাকা হানিফের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ

মামলাটিতে এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং দাখিল করা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে, গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এখন সব পক্ষের যুক্তিতর্ক ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৯ অক্টোবরের রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আওয়ামী লীগের চার নেতার মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

আপডেট সময় : ১২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন আইনি লড়াই করছেন।

সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন

মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে হানিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে অংশ নেন এবং অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, হানিফ বেসামরিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নির্দেশনা ও টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা এবং দলীয় নেতাদের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আরও অভিযোগ, টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হানিফ। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর তামিম যুক্তিতর্কে বলেন, একই ধরনের অপরাধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে কারণে একই অবস্থানে থাকা হানিফের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ

মামলাটিতে এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং দাখিল করা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে, গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এখন সব পক্ষের যুক্তিতর্ক ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৯ অক্টোবরের রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।