অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট
- আপডেট সময় : ০১:৩০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকতে পারে। এসব অস্ত্র কোথাও মজুত করা হয়েছে কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ জন্য পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিটটি বিশেষভাবে লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করবে।
তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার
অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র দ্রুত শনাক্ত করে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কোনো তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যের গুরুত্ব এবং অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতার ভূমিকা বিবেচনা করে পুরস্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এর উৎস, মজুত ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান।
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সভায় উঠে আসে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা, আধুনিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে আরও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের জনবল, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।




















