ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ হাসনাতের
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।
কেন দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে তিনি সংসদে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
হাসনাতের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন। একই সঙ্গে এতে সেখানকার আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কনসার্ট বন্ধের ঘটনা নিয়ে যা বললেন
পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন হাসনাত। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার থেকে আলাদা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদরাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা কনসার্টের শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন।
এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। হাসনাতের দাবি, পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
তিনি বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি। তারা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে ভুল স্বীকার
নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রেও নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন।
এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিব্রত ও দুঃখিত বলে জানান।
তবে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন বা ‘ফ্রেমিং’ নিয়ে সংসদে আরও বিস্তারিত বলা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন হাসনাত। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমিত থাকায় তিনি বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেননি।
জুলাইয়ের আদর্শের কথা বললেন হাসনাত
পোস্টের শেষাংশে জুলাইয়ের আদর্শের প্রতি নিজের ও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। কেউ অন্যের ওপর নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে পারবে না।
হাসনাতের মতে, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। যার যেটি পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে। আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না।
সরকারের দায়িত্ব হলো, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
হাসনাত বলেন, সরকার যদি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে। এতে সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন ছিল এটি। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




















