অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
মাদক কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সাংবাদিকদের একাংশ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই অনুষ্ঠানে ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে দেওয়া তাঁর বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেমের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আইজিপি।
মাদক কারবার নিয়ে সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনা
আইজিপি বলেন, দেশের বেশিরভাগ অপরাধের পেছনে মাদক একটি বড় কারণ। অথচ মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ চললেও অনেকে এ বিষয়ে কথা বলেন না। বরং সেখান থেকে গোপনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সাহেবরা সেখান থেকে যখন পয়সাটা পাচ্ছেন, তখন লিখছেন—পুলিশ এই দেশে অকার্যকর হয়ে গেছে।’
পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে আলী হোসেন ফকির বলেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের প্রয়োজন হয়। তাই আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
তবে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। আইজিপি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে এবং বাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ ও গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত ঘটনা চিহ্নিত করে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছে পুলিশ: আইজিপি
আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং জনগণের জন্য স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে যা বললেন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, কে দেশে আসবেন বা কী ঘটবে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিবেচ্য বিষয় নয়। তাঁদের দায়িত্ব হলো আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ (অনুমোদন) করে, আমরা সেটাই করব।’
তাঁর এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকে ক্রসফায়ার নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া কতটা যথাযথ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
দুই মাসে ২৭ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
আইজিপি আরও বলেন, বর্তমানে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারের সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। তবে যেকোনো ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে পুলিশকে দায়ী করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সামাজিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন আইজিপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
আইজিপির বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্রসফায়ার নিয়ে তাঁর মন্তব্য এবং সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদক কারবার থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, পুলিশের অপরাধ বা ব্যর্থতার অভিযোগ মোকাবিলার পরিবর্তে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মতামত; অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইন ও সংবিধানের অনুসরণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অপরাধের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।






















