০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

৫ জেলায় পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই পাঁচ শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আদালত চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন।

১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ

আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজ নিজ জেলায় সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া কমিটি গঠন এবং পুকুর সংরক্ষণে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির আওতায় আসবে।

তিন মাসের মধ্যে পুকুরের তালিকা জমা

হাইকোর্টের আরেকটি নির্দেশনায় পাঁচ জেলা শহরে সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) ও আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের হলফনামা আকারে এই তালিকা তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে। এতে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে আদালত বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

পুকুরের সঠিক হিসাব নির্ধারণ এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা চিহ্নিত করা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেকর্ডভুক্ত জলাধার অবৈধভাবে দখল বা ভরাট করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারির ক্ষেত্রে এই তালিকা সহায়ক হবে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রেকর্ডভুক্ত পুকুর রক্ষায় কার্যকর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরসেদ

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইমামুল মুশফিকুর।

হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের তালিকা প্রস্তুত, অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হলো। তবে রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৫ জেলায় পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই পাঁচ শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আদালত চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন।

১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ

আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজ নিজ জেলায় সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া কমিটি গঠন এবং পুকুর সংরক্ষণে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির আওতায় আসবে।

তিন মাসের মধ্যে পুকুরের তালিকা জমা

হাইকোর্টের আরেকটি নির্দেশনায় পাঁচ জেলা শহরে সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) ও আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের হলফনামা আকারে এই তালিকা তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে। এতে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে আদালত বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

পুকুরের সঠিক হিসাব নির্ধারণ এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা চিহ্নিত করা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেকর্ডভুক্ত জলাধার অবৈধভাবে দখল বা ভরাট করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারির ক্ষেত্রে এই তালিকা সহায়ক হবে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রেকর্ডভুক্ত পুকুর রক্ষায় কার্যকর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরসেদ

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইমামুল মুশফিকুর।

হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের তালিকা প্রস্তুত, অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হলো। তবে রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।