০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

৩শ মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী থানা পুলিশ

তিন মাসের ব্যবধানে ৩শ মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী থানা পুলিশ। এমন ঘটনায় বিস্মিত মোবাইল ফোনের মালিকরা। মোবাইল ফোন

গৌতম আদানির ফৌজদারি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে খারিজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৯ গৌতম আদানির ফৌজদারি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে খারিজ জালিয়াতি ও ঘুষ প্রদানের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল, তা খারিজ হয়ে গেছে। গত কাল সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল (কেন্দ্রীয়) সরকারের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞাপন নিউইয়র্কের ব্রুকলিন শহরের জেলা আদালতে চলছিল মামলার কার্যক্রম। মার্কিন বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মামলাটি খারিজের জন্য একাধিক ফেডারেল প্রসিকিউটর আবেদন করেছিলেন। সোমবার শুনানি শেষে সে আবেদনে সাড়া দিয়ে মামলা খারিজ করে দিয়েছেন ব্রুকলিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফি। তবে খারিজের তিনি প্রসিকিউটরদের আবেদনের কারণ সম্পর্কে জানতে চান। অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তে আদানির যুক্তরাষ্ট্রে আদানির ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মামলা খারিজের আবেদনে কোনো প্রভাব রেখেছে কি-না, তা ও জানতে চেয়েছিলেন বিচারক গারাউফি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে কোনো একটি মামলা খারিজের জন্য একাধিক ফেডারেল প্রসিকিউটরের আবেদনের ঘটনা ‘বিরল’। তবে বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে প্রসিকিউটরা জানিয়েছেন, এটি বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত এবং সে সিদ্ধান্তই তারা আবেদনের আকারে পেশ করেছেন। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন জেলা আদালতে গৌতম আদানি, তার ভাতিজা সাগর আদানি ও তাদের সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল এ মামলা । সে অভিযোগে বলা হয়, ভারতের একটি মেগা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাগিয়ে নিতে দেশটির কয়েক জন কর্মকর্তাকে মোট ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ প্রদান করেছিলেন গৌতম আদানি। প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজ নিজের প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জিকে পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এ ঘুষ প্রদান করেছিলেন তিনি। বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাদের রাজি করানোর পর আদানি গ্রিন এনার্জি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা শুরু করে। এ জন্য তারা বন্ডও ছাড়ে। এ ক্ষেত্রে আদানি গ্রিন এনার্জি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবিরোধী ও ঘুষবিরোধী প্রচেষ্টার বিষয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত দিয়েছিল। যে প্রকল্প বাগানোর জন্য তারা এ ঘুষ দিয়েছিলেন, সেটি থেকে পরবর্তী ২০ বছরে কমপক্ষে ২ শ’ কোটিরও বেশি ইউরো মুনাফা আসার কথা। অভিযোগ গঠনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৬২ বছর বয়সী গৌতম আদানির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছিল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। গত ১৮ মে প্রধান আসামি গৌতম আদানিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। ভারতীয় এ ধনকুবেরের আইনজীবী রবার্ট গিউফ্রা সে সময় বলেছিলেন, এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আদানি; কিন্তু এ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা ছিল এই ফৌজদারি মামলা। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তাকে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয় না। বিজ্ঞাপন মূলত বিনিয়োগের পথে বাধা দূর করতেই গৌতম আদানিকে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন রবার্ট গিউফ্রা, ‍যিনি এক সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। আদানিকে অব্যাহতি দেওয়ার তিন মাসের মধ্যে সেই মামলাও খারিজ হলো। বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ মেনে মামলা খারিজ করলেও ব্রুকলিন জেলা জজ নিকোলাস গারাউফি মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককোটারের সমালোচনা করেছেন। লিখিত আদেশে তিনি বলেছেন, “অভিযোগ খারিজ করার সিদ্ধান্তের অসঙ্গতিগুলো উদ্বেগজনক। মনে হচ্ছে, ম্যাককটার বিভিন্ন ফেডারেল অফিসের অসংখ্য কর্মকর্তার পেশাগত মতামতকে উপেক্ষা করে সেগুলোর জায়গায় নিজের একক বিচারবুদ্ধিকে প্রতিস্থাপন করেছেন।” এদিকে সোমবার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় গৌতম আদানি বলেছেন, “আমি মার্কিন বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করে বিনয়ের সঙ্গে এ রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি।” এখানে উল্লেখ্য, যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে একদিনও আদালতে হাজিরা দেননি গৌতম আদানি।