ফের হাইকোর্টে জামিন জালিয়াতি ধরা, তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
হাইকোর্টে আবারও ধরা পড়েছে জামিনসংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা। একই মামলায় তথ্য গোপন করে একাধিক জামিন আবেদন করার বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ আসামি ও তিন তদবিরকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তিন আইনজীবী হলেন আন্না খানম, এস এম আব্দুল বাতেন ও মো. রহিমউদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
একই আদেশের বিরুদ্ধে তিনটি জামিন আবেদন
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ জানান, একই মামলায় আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে তিনটি পৃথক জামিন আবেদন করা হয়েছিল। এসব আবেদনের মধ্যে তথ্য গোপন করে একজন আসামির জামিনও নেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নজরে আসে। আবেদনের তথ্য যাচাই করে আদালত জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পাঁচ আসামি ও তিন তদবিরকারীকে নোটিশ
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিন আইনজীবী আগামী ১৫ দিন কোনো মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি মামলার পাঁচ আসামি ও তিন তদবিরকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসামিদের পক্ষে অন্য কোনো আবেদন করা যাবে না।
জালিয়াতির ঘটনায় কঠোর অবস্থানে হাইকোর্ট
সর্বোচ্চ আদালতে বারবার জামিন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় হতাশা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার চেষ্টা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্টের এ পদক্ষেপকে জামিন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


























