এইচএসসি-আলিমে দুই বিষয়ে ফেল করলেও পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে
- আপডেট সময় : ১২:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৪১ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়া হবে। ফলে আগের মতো পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। এতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় বাঁচবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীর যাতে একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছে। শিগগিরই তারা আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাধারণত কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি বছর পিছিয়ে পড়তে হয়। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ফল উন্নয়নের সুযোগ পাবেন।
এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
শনিবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
২ জুলাই শুরু হয়েছিল পরীক্ষা
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পুনঃপরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, বিষয়ভিত্তিক সময়সূচি এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর বিস্তারিত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।





















