সৌদিতে ছয় দফা হামলার দাবি হুতিদের, মক্কায় হামলা অস্বীকার
- আপডেট সময় : ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনায় ছয় দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের দাবি, রাজধানী রিয়াদ, দাম্মাম, নাজরানসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়। তবে পবিত্র মক্কা অঞ্চলে ড্রোন হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি অস্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব তথ্য জানান।
সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি
ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তার বিবৃতি অনুযায়ী, হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক এলাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
একই সঙ্গে রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তরেও হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
তবে এসব হামলার বিষয়ে হুতিদের দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মক্কায় ড্রোন হামলার দাবি অস্বীকার
এদিকে মক্কা অঞ্চলে হুতিদের একটি ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
তিনি বলেন, ‘আজ সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আমরা কোনো অভিযান চালাইনি।’
হুতিদের সামরিক অভিযান কেবল তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মক্কা অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
জোটটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কা অঞ্চলে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’
সৌদি-ইরান বৈঠকের পরও উত্তেজনা
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সৌদি আরবে হুতিদের এই হামলার দাবি। কারণ, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরল একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় আঞ্চলিক বিরোধগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে সম্মত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও শহর লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে।
এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও তিন শতাধিক মানুষ।
সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।





















