৭ নভেম্বর সারা দেশে বর্ণাঢ্য র্যালি করবে বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৪:২০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য র্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
৭ নভেম্বর যেসব কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি
রিজভী জানান, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারা দেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা।
এ ছাড়া ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পোস্টার প্রকাশের উদ্যোগ নেবে।
দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির খসড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
৬ নভেম্বর আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান সম্মতি দিলে ৬ নভেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভার আয়োজন করা হবে।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরলেন রিজভী
সংবাদ সম্মেলনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তাঁর মতে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনার সঙ্গে দিনটি গভীরভাবে সম্পর্কিত।
রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। একইভাবে ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
রিজভীর দাবি, পরবর্তী সময়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনকেও প্রভাবিত করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয়।
ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় এ দিনের তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য।
























