নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর
- আপডেট সময় : ০১:৩০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আগে সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে বিস্তারিত আলোচনা ও লিখিত অনুমোদন চেয়েছেন সেনাপ্রধান।
প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে—এমন একটি সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক অভিযান নিয়ে সেনাপ্রধানের আপত্তি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে নতুন করে অভিযান চালানোর বিষয়ে সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও লিখিত অনুমোদন চেয়েছেন জেনারেল ইয়াল জামির। তবে প্রস্তাবিত অভিযানের লক্ষ্য, সময় ও ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের আগে ইরান ইস্যুতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে নির্বাচনি সুবিধা পেতে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগটি প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। এটি প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক বিতর্কে উঠে আসা একটি দাবি।
বড় সংঘাতের আশঙ্কা
ইসরায়েলের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।
ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
মতবিরোধের খবর অস্বীকার নেতানিয়াহুর
এদিকে রোববার রাতে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়নি।
একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানে সম্ভাব্য গোপন সামরিক অভিযান এই নির্দেশনার অংশ কি না, তা স্পষ্ট নয়।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালু করেছে। তিনি বর্তমান নির্বাচনকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেও বর্ণনা করেন।
এআই দিয়ে তৈরি ছবি ঘিরে বিতর্ক
রোববার সকালে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতেই ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে নির্বাচনের আগে এ ধরনের ছবি প্রকাশ করে জনমনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোট ও ইয়াইর গোলান।
ইরানে হামলার প্রস্তাবে ট্রাম্পের অবস্থান
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানে হামলার একটি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন নেতানিয়াহু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্প নতুন করে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সে কারণে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন কোনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।




















