প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সৌজন্য সাক্ষাৎ
- আপডেট সময় : ০২:০২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় তারো আসোর নেতৃত্বে মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতিচারণ
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন। সে সময় তিনি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানি
সাক্ষাৎকালে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের পক্ষে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সাক্ষাৎ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।




















